1. newsshariful@gmail.com : Md shariful islam : Md shariful islam
  2. torikhossainbappy@gmail.com : Torik Hossain Bappy : Torik Hossain Bappy
শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

সময় কথা বলবে : সেলিম ওসমান

স্টাফ রিপোর্টার
  • সংবাদ প্রকাশের সময়ঃ মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪
  • ১৯ জন্য পাঠক দেখেছে।

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে এমপি সেলিম ওসমান কাউকে সমর্থন দিবেন না, এবং নির্বাচনের সাথে তার কোন সম্পর্কও নেই। সবাই মিলে যাকে প্রার্থী নির্ধারণ করে দিবেন সেই প্রার্থীর জন্য তিনি শুধুমাত্র দোয়াই করবেন। সেই সাথে তিনি এই নির্বাচনে পুলিশকে নাক না গলাতে এবং প্রত্যেক কেন্দ্রে সাংবাদিকদের ক্যামেরা চালু রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার ৯ জুলাই বিকেলে বন্দর ইউনিয়নের বালুচর এলাকায় একটি মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান মুছাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মুছাপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান সাহেব হুমকি দিলেন যদি কোন দোষ থাকে তাহলে সেটা ঘরের ভেতরে বললে ঘরেই থাকবে। মুছাপুরে কি বালুর ব্যবসা হয়না চেয়ারম্যান সাহেব? আমি এই এলাকায় সংসদ সদস্য। মুছাপুর দিয়ে অথবা কোন উপজেলার চেয়ারম্যান আমার উপরে কোন কথা বলতে পারবে না। যারা আজকে এইসব বালু ব্যবসা সহ অন্যান্য কথা গুলো বলেছেন তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এই কথা গুলো আমারই বলা উচিত ছিলো। গতকাল এই চেয়ারম্যান সাহেবের বক্তব্য আমি রেকর্ডকৃত ভাবে শুনেছি। যদি তিনি ওই বক্তব্যই দিয়ে থাকেন, তবে আজকে তিনি এখানে আসলেন কেন? এক খেলা খেলেছেন বার বার খেলা চলবে না। মানুষের সেবার জন্য যদি কেউ জনপ্রতিনিধি হয় আমি তার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে রাজি আছি। উপজেলা নির্বাচন কিন্তু টাকার খেলা হয়েছে। আমরা দুদু খাই না। কে কতটাকা কোথায় খরচ করেছে, কোন মসজিদে কত টাকা দিয়েছে, কার কত টাকা ঘোষণা ছিল, সময় কথা বলবে।

 

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন আমরা বাধা গ্রস্থ করি নাই। সেলিম ওসমানের কথা নারায়ণগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি জাতীয় পার্টি, কেউ বাকি থাকতো না। প্রতেকটা ভোট কেন্দ্র দখল করেই নির্বাচন করা যেত। আমরা সেটা করি নাই। আজকেও আমি কাউকে সমর্থন দিতে আসি নাই। উপনির্বাচন নিয়ে আমার এলাকায় আসা আইনগত বাধা আছে কিনা আমি এখনো জানিনা। আমার কাছে কোন চিঠি আসে নাই। আমি বহুবার বলেছি পাঁচটি চেয়ারম্যান আমার পাঁচটি সন্তান। আমি কাউকে কোন বাধা দেই নাই। একসাথে বসিয়ে বলেছি তোমাদের হাতে আরো সময় আছে। রশিদ ভাই আমি বৃদ্ধ করে মারা যাই জানিনা। তোমরা চিন্তা করে দেখো রশিদ ভাইকে আবারো আনা যায় কিনা।

 

তিনি বলেন, আমার কাছে বলা হয় টাকা ছাড়া মুছাপুরের মানুষ ভোট দেয়না। তারা পকেট ভরে টাকা নেয়। মসজিদে যারা টাকা নিয়েছেন তারা কি পারেন একটি নির্বাচনী প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিতে? আপনারা দুর্বল হয়ে গেছেন, আপনারা ভয় পান। আল্লাহ ছাড়া যদি কাউকে ভয় পায় তাহলে সে মানুষ না, সে মোনাফেক। ভয় পাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। ২১ বছর জয়বাংলা বলতে পারিনাই। অনেক রাজাকার আলবদর সংসদে গিয়েছেন। রাজাকার আলবদর অনেকেই ক্ষমা পেয়ে গেছেন। তার মধ্যে আপনাদের মুছাপুরেও কিন্তু একই পরিবারের ৫জন রয়েছে। কখন ক্ষমা পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মোস্তাকের মাধ্যমে ক্ষমা পেয়েছেন। আমি এমপি হওয়ার আগে উনি চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার কারো সাথে ঝগড়া নাই। মানুষ ভাল তো বাপ কি দাদা কি আমি দেখি নাই। মানুষকে সেবা করতে পারলে তার থেকে আর ভাল মানুষ হয়না। সব ধর্মেই ¯্রস্টাকে খুশি করতে মানুষের সেবার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ভোটের আগে হাত পা কেটে ফেলার হুমকি ধামকি! এই দিন দিন না, আরো দিন আছে।

 

তিনি বলেন, উনি শপথ নেওয়ার পর উপজেলা মিটিং করতে গেলে। একজন এমপি উপজেলার উপদেষ্টা। তার কাছ থেকে সময় নিয়ে ওই মিটিং করার কথা ছিল। আমি তো বলিনাই আমি যাবোনা। কিন্তু কোন চেয়ারম্যানরা, বীরমুক্তিযোদ্ধারা, এমনকি সাংবাদিকরাও ওই দিনের মিটিংয়ে যোগ দেয়নি। দ্বিতীয় মিটিংয়েও চেয়ারম্যানরা ও মুক্তিযোদ্ধারা যান নাই। টাকা দিয়ে কয়দিন চলবেন? মুছাপুরের মানুষ কি এতোই টাকা খোর? এতোই ভীত? এতোই ভয় পায়? বিল্ডিং বানিয়ে পুরো বিল্ডিংই নিয়ে যায়, নিরীহ মানুষের জমিজমা এগুলো তো মামলা হয়নি এখনো। মামলা তো আছে, পুলিশ পেটানোর মামলা আছে, এটেম টু মার্ডারের মামলা আছে। আমি আজকে এখানে কাউকে সমর্থন দিতে আসি নাই। একটা ভাল উপদেশ দেই আজকে এখানে মঞ্চে তিনজন প্রার্থী আসছে। আর ওদের বাড়িতে ৩জন প্রার্থী আছে। বর্তমান চেয়ারম্যান গতকালকে বলেছেন বাপে পুতে মিলেই মুছাপুর চালাবে। তাহলে এই তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকেই বসিয়ে দেই। নির্বাচন করার কি দরকার। মুছাপুরের মানুষ যদি চান আগামীকাল পর্যন্ত সময় আছে। তিনপ্রার্থী অনেক সাহস নিয়ে দাড়িয়েছেন। আপনারা যদি সমর্থন করেন তাহলে তারা নির্বাচন করবে। টাকার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যখন মনোনয়নপত্র কিনতে যাওয়া হয়েছিল তখন তারা সেখানে পাহাড়া দিয়েছে। সময় কথা বলবে। আমরা তো কিছু বলি নাই। নারী নির্যাতন মামলা কি কোন পুরুষ মানুষ করেছে নাকি মেয়ে মানুষ করেছে। বিয়া কি আপনি করেছেন নাকি আমি করেছি? বিয়ে করবেন, মেয়ে সন্তান জন্ম দিবেন তাদের ভরনপোষন দিবেন না আরে বাহ! আপনি আবার বিচারক বিচার করেন। আরেকজনের তালাক দেওয়া স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে বলেন। হায়রে আমার মাওলানা সাহেবরে। মসজিদে মসজিদে টাকা দেন। তালাক দেওয়া বউকে ঘরে রাখতে হবে এটা কি মুসলামের নিয়মের আছে নাকি? আমি শুনেছি আর আপনারা জানেন, রেলওয়ের জমি দখল করে মার্কেট, এটা সেটা কোনটা বাদ রাখে নাই। যদি মুছাপুরের মানুষ ভীত হয় আমাকে বলে দিবেন। ভয় পেলে নির্বাচন করার দরকার নাই। ওই চেয়ারম্যানের কথাই ঠিক থাকুক। বাপে পুতে মুছাপুর চালাক। অথবা এই চেয়ারম্যান যা বলেছেন সংসদ সদস্য যে নির্দেশনা দিবেন তার জন্য আমি জানপ্রান দিয়ে খাটবো। আমি কোন নির্দেশনা দিবো না। মাকসুদকে আমি আজ পর্যন্ত কোথাও অপরাধী বলি নাই। মাকসুদ আমার ছবি, আমার ভাইদের ছবি দিয়ে পোষ্টার ছাপিয়ে ছিলো নিষেধ করা হয়েছে। একজন প্রার্থী আমার আর আমার ভাইদের ছবি দিয়ে পোষ্টার ছাপিয়েছে এটা করবেন না। নির্বাচনে কেউ আমার ছবি ব্যবহার করবেন না।

 

গুজব ছড়ানোর কথা বলে তিনি বলেন, বন্দরে একটি গুজব ছড়ায়ছে। আমার নাকি এখনো তাদের মাথায় হাত আছে। যে কোন সময় মিইল্লা যাবে। এমন গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেলিম ওসমান তার সাথেই থাকবে যে আমার মত বলতে পারবে যে আমি জনগনের গোলামী করবো। আমি বাহাদুরি করবো সেই লোককে যদি আপনারা পছন্দ করেন তাহলে দরকার নাই আমার সেই মানুষের। আমার পাশে দাড়ানো এই মানুষটি নাসিম ওসমানের একজন সৈনিক, আবার এও জানি উপজেলা নির্বাচনে সে মাকসুদের জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করেছে। কিন্তু বাপ ছেলে দুজন যদি এক সাথে হয়। চরিত্র যদি একরকম হয়। ঘরে বিয়ে করা বউ রেখে যদি আরেক জায়গায় গার্লফ্রেন্ডের সাথে ফূর্তি করার ভিডিও ঘরের বউকে দেখানো হয়, সেই বউকে ঘরে থাকবে? চরিত্র বলে কিছু কি আছে? আমি জানতে চাই মুছাপুরের মানুষের কি চরিত্র, ইমান ধর্ম আছে? তাহলে আপনারা যদি বলেন তবেই নির্বাচন হবে। আমার কাছে হিসাব আছে ১২ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে নির্বাচনে। এতো টাকা আসলো কোথা থেকে। এই ১২ কোটি টাকা দিয়ে বন্দরের কত উন্নয়ন করা যেতো। এখন আবার ছেলেকে নিয়ে নির্বাচন করছেন কেন যে ১২ কোটি টাকা খরচ করেছেন সেটা উঠানোর জন্য? পকেটে পয়সা পেয়ে ভোট দিবেন মনে রাখবেন শরীরের রক্ত নিয়ে চলে যাবেন। মুছাপুরের মানুষ যদি সাবধান না হোন, তাহলে বলে দিবেন এই তিনজন মানুষ নির্বাচন করবে না। এই নির্বাচনের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই।

 

মাকসুদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানকে বলবো পরিবারতন্ত্র করবেন না। আপনি বিপদে পড়ে যাবেন। আপনার পোয়াও এতো ভাল না। আপনাকেও বেচে ফেলবে। এলাকার মানুষ চরিত্র দেখেন। একজন মহিলাকে অপমান করা মানে সকল মহিলাকে অপমান করা। কেন আপনি বউ বাচ্চার ভরন পোষন দেন না। কেন মামলাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন আপনাকে ৭দিন জেল খাটতে হবে। আমার এলাকার উপজেলার চেয়ারম্যান যদি নারী ঘটিত কারনে জেলের ভাত খায় তাহলে আমার ইজ্জত থাকে? উনি আমাকে ফোন করেছিলেন ভাই আপনাকে সালাম করতে আসবে। নির্বাচনের আগেও আপনি আমাকে সালাম করে বলেছিলেন যে ভাই নির্বাচন করা ছাড়া আমার কোন উপায় নাই।

 

সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি কারো নাম বলবো না। আপনারা সবাই মিলে যার পক্ষে সিদ্ধান্ত দিবেন সেই নির্বাচন করবে। তার প্রতি আমার দোয়া থাকবে। শুধুই দোয়া থাকবে। পুলিশ ভাইদের বলবো এই নির্বাচনে নাক গলাতে আসবেন না। সাংবাদিক ভাইদের বলবো আপনারা নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে আপনাদের ক্যামেরা সার্বক্ষনিক চালু রাখবেন।

 

বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম.এ রশিদের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন ,বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ গাজী সালাম, মুছাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম, মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, মুছাপুর ইউনিয়নের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী হোসেন, ইসমাইল মিয়া, হানিফ কবির সহ অন্যান্যরা।

অনুগ্রহ করে আপনাদের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া গুলিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন টি শেয়ার করে আমাদের সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।

এ জাতীয় আরও সংবাদ ক্যাটাগরি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৪
  • ১২:০৭
  • ৪:৪৩
  • ৬:৫৩
  • ৮:১৮
  • ৫:১৮