যুবদল নেতা বদিউজ্জামান হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি রায়হান সহ গ্রেফতার-৩

লেখক: শামীম আখতার, খুলনা 
প্রকাশ: ২ years ago

যশোর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান ধনির হত্যার রহস্য উদঘাটন করে প্রধান আসামী রায়হানসহ ৩ আসামী গ্রেফতার এবং হত্যাকাজে ব্যবহৃত দুটি গাছি দা, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেছে জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে যশোরের টিবি ক্লিনিক পাড়া ও খুলনার দিঘলিয়া বারাকপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়াও এর আগে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা টিবি ক্লিনিক এলাকার মোঃ রইজ এর ছেলে আলামিন হরফে চোর আলামিন (২৫) কে আটক করে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ জুলাই) বেলা ১১.৪০ ঘটিকায় কোতয়ালী মডেল থানার শংকরপুর চোপদারপাড়া আকবরের মোড়ে একই এলাকার মৃত আঃ লতিফের ছেলে বদিউজ্জামান হরফে ধনি (৫০) কে ৭/৮ জন দূর্বৃত্তরা কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়।

এলাকাবাসী উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এ ঘটনায় নিহত বদিউজ্জামানের ভাই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে বুধবার মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। থানার মামলা নং-৫৩।

ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় জেলা পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার), পিপিএম কোতোয়ালী থানা ও ডিবি পুলিশকে জড়িতদের গ্রেফতার এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

পুলিশ সুপারের এঁর দিক-নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই আনছারুল হক এর নেতৃত্বে কোতয়ালী থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে যশোর কোতয়ালী থানার টিবি ক্লিনিক পাড়া ও খুলনার দিঘলিয়া বারাকপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামী রায়হান ও এজাহার নামীয় ৭নং আসামী ইছা মীরকে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে তাদের স্বীকারোক্তিতে শংকরপুর চোপদারপাড়া আকবরের মোড় এলাকায় ভাঙ্গারী পট্টির মসজিদের পুকুর থেকে হত্যাকাজে ব্যবহৃত ২টি গাছি দা, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেন।

তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত বদিউজ্জামান ধনি যশোর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। একই এলাকার ৭নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি পদপ্রার্থী শামীম আহম্মেদ মানুয়ার মধ্যে বদিউজ্জামান ধনির দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল এবং মানুয়ার জামাই ইয়াসিন আরাফাত এর হত্যাকে কেন্দ্র করে সর্বোপরী এলাকায় দলীয় বিএনপি’র আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বদিউজ্জামান ওরফে ধনিকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, যশোর রেলরোড টিবি ক্লিনিক ফুড গোডাউনের দক্ষিন পার্শ্বের বাসিন্দা ফরিদ মুন্সির ছেলে মোঃ রায়হান (২৫), শংকরপুর হারানবাড়ীর পাশ্ববর্তী মোঃ বাবু মীর এর ছেলে ইছা মীর (২০) এবং র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্য কর্তৃক টিবি ক্লিনিক এলাকার মোঃ রইজ এর ছেলে আলামিন হরফে চোর আলামিন (২৫)।

নিহত বদিউজ্জামান ধনি ও গ্রেফতারকৃত আসামীদের পিসি/পিআর যাচাই করে জানা গেছে, নিহত বদিউজ্জামান ধনি’র বিরুদ্ধে ইয়াসিন আরাফাত হত্যা মামলাসহ ২টি হত্যা মামলা, ১টি অস্ত্র মামলা, ১ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা, ১টি বিস্ফোরক মামলাসহ ১২টি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। এবং ধনির হত্যার প্রধান আসামী রায়হানের বিরুদ্ধে ১টি অস্ত্র মামলা, ১টি মাদক মামলা, ২টি চাঁদাবাজি মামলাসহ ৪টি মামলা বিচারাধীন আছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার।

  • প্রধান আসামি রায়হান সহ গ্রেফতার-৩
  • যুবদল নেতা বদিউজ্জামান হত্যার রহস্য উদঘাটন