মুন্না মেরা ভাই হে……

লেখক: হোসেন মনির
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

“মুন্না মেরা ভাইহে-দেশকা সিপাহি হে,
আয়েহো ঘোড়েপে-কাম নাই হুয়াতো যাওগে ……..?

নিতাইগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক নাম। এর আশপাশ বাংলাদেশে অতি পরিচিত ব্যবসায়ীদের বসবাস। নিতাইগঞ্জ নিয়ে স্বনামধন্য গীতিকার লিখেছেন কণ্ঠশিল্পীরা গেয়েছেন কালজয়ী গান,”কোন বা পথে নিতাইগঞ্জে যাই ও বন্ধুরে”। নিশ্চয়ই এ পথ বারটা বাজার পথ তাইতো এধরনের গান? গম,আটা,ময়দা, ভুসি, লবণ,পাট আরো নানান কিছু নিতাই গঞ্জকে করেছে বিখ্যাত। এখানকার আশপাশের অনেক এলাকাতেই পাকিস্তান আমলে অনেক উর্দুভাষী পরিবারের বসবাস ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এখন খুব সামান্য উর্দুভাষী পরিবার এ এলাকাগুলোতে বাস করছে বলে জানা যায়। সময়ের স্রোতে হারিয়েছে তারা নিজস্ব স্বকীয়তা।

কৃষ্টিকালচারে নিতাইগঞ্জ কখনোই পিছিয়ে ছিল না। যতদুর জানা যায় ১৯৯২ থেকে ৯৬ সালের মধ্যে নিতাইগঞ্জে ছিল ব্যান্ড দল এখনোও আছে। নিতাইগঞ্জের সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীরা আশপাশের শহরতলী নতুন সৈয়দপুর, চরসৈয়দপুর, কাশিপুরসহ মুন্সিগঞ্জেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে মাতিয়ে রাখত সাধারণ মানুষদের আর সেই সাধারণ মানুষরা শিল্পীদের উপহার দিতো। নিতাইগঞ্জ এখনো সাংস্কৃতিক মন মানসিকতা ধরে রেখেছে।

স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিক থেকেও নিতাইগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ‘ ৯০ পরবর্তী নিতাইগঞ্জের স্থানীয়-জেলার রাজনীতিতে ভূমিকার কথা বলতে গেলে অনেক গুনীজনের নামের সাথে সাইদুল হাসান বাপি ভাইয়ের নাম মনে-মুখে চলে আসে এটা ঠেকানো যায় না। নিতাইগঞ্জসহ আশেপাশের শহরতলী গ্রাম এমনকি আওয়ামী কেন্দ্রীয় রাজনীতির নেতৃত্বের মুখে মুখে এই সাইদুল হাসান বাপি ভাইয়ের নেতৃত্বের প্রশংসায় ফুটে উঠেছে যা অত্যন্ত গর্বিত করেছে নিতাইগঞ্জ ও তার আশপাশের শহরতলীবাসীকে। কিন্তু এক কালো রাত বাপ্পী ভাইয়ের জীবন কেড়ে নিয়ে যায়! শ্রমিক মেহনতী ও সাধারণ মানুষ এলাকাবাসী ও নিতাইগঞ্জের ওপর দিয়ে চলাচল করা অন্যান্য জেলার মানুষ যারা তাঁর সম্পর্কে জানে তাদের চোখে মুখে নেমে আসে শোকের ছাঁয়া। তাঁর জন্য এখনো এলাকবাসী ও অন্যান্য শহরতলী ও জেলার উপকারভোগীরা দুঃখ করে- দোয়া করে। এখানে প্রশ্ন থেকে যায় যে, ১৯৯৬ইং সালে সাইদুল হাসান বাপ্পি ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার মত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কোন চৌকস নেতৃত্ব নিতাইগঞ্জে কি গড়ে উঠেছে? বরং বাপ্পী ভাইয়ের মৃত্যুর পর বর্ধিত বঙ্গবন্ধু সড়কের স্বাধীনতা চত্বরে জাতীয় নেতৃবৃন্দের ভাস্কর্যে ঝাড়ু সেঁটে দেয়া হয়েছিলো ভাস্কর্যের রঙের সাথে মিল রেখে! যা অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে তখন নাসিক ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিল কবির হোসেন। এর আগে কাউন্সিলর ছিলো সেই সাইদুল হাসান বাপ্পীর ছোট ভাই কামরুল হাসান মুন্না!

নিতাইগঞ্জের একঝাঁক সুদর্শন তরুণও ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে চেহারা-গোঁফ আর মুচকি হাসির সুন্দর সমন্বয়ে সারা বাংলাদেশের অনেকের মন কেড়ে নিয়েছিল একটি ব্যাংকের এস এম ই লোনের বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে কামরুল হাসান মুন্না!

কামরুল হাসান মুন্না বর্তমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর। মাঝে একবার পতন ঘটে ছিল। ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয়না-এটাই নাকি ইতিহাসের শিক্ষা! বতর্মান কাউন্সিলর মুন্নার চেহারায় ও চলনে একটা ভাব আছে সত্য কিন্তু তিনি কি তাঁর প্রয়াত বড় ভাইয়ের গুনে গুনাম্বিত? তিনি কি তাঁর নির্বাচনী এলাকার তৃণমুল জনগন ও শ্রমিক খেটে খাওয়া মানুষের মন বুঝতে পারেন? তিনি কি সাধারণ জনগনের দুঃখদুর্দশা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন?
সাইদুল হাসান বাপ্পি ভাই তাঁর নেতৃত্ব মাদকবিরোধীতা,ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা,জনকল্যাণের কারনে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জসহ আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাঁকে চিনতো। অপরপক্ষে, কামরুল হাসান মুন্নাকে তার নির্বাচনী এলাকা-শহরতলী-আর তাঁর বুকের ওপর দিয়ে চলা মুন্সিগঞ্জের মানুষ এবং যারা অন্যান্য জেলা থেকে নিতাইগঞ্জে ব্যাবসা করতে আসে তারা সকলেই চিনে রাস্তাঘাট খানাখন্দেভরা এবং সেকারনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টিকারী একজন ব্যর্থ কাউন্সিলর হিসেবে-বিষয়টি খুবি দুঃখজনক! নিতাইগঞ্জের মোড় থেকে শুরু করে তাঁর মহল্লার দাফন কমিটির সম্মুখের রাস্তার খানাখন্দের কারনে মুলত প্রথম যানজট শুরু হয় তারপর সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ‘মেসার্স নিজামউদ্দিন ক্যারিয়ার সার্ভিস পয়েন্ট’যেন মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ! নতুন সৈয়দপুর আলামিননগরের রাস্তার বুকের খাঁচাও উঠে এসেছে অর্থাৎ রড বেরিয়ে গেছে! মুন্সিগঞ্জসহ এ এলাকার রোগী,ছাত্রছাত্রী,শ্রমিককর্মচারীদের অফিস যাওয়া ও আসার সময়ে আক্ষেপ-অভিশাপ যদি কাউন্সিলর মুন্না দেখতো আর হৃদয়ঙ্গম করতে পারতো তাহলে অনেক আগেই মেয়র আইভীর পা না ধরুক হাত ধরে বসে থাকতো এটা নিশ্চত! ধীরেধীরে কাউন্সিলর মুন্নার সেই ভাব জনগনের কাছ থেকে লোপ পাবার আগেই যেন এ রাস্তাঘাটগুলো দ্রুত সারিয়ে তুলে এলাকাবাসির মুখে যেন হাসি ফুটিয়ে তোলে এমনটিই মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে তাঁকে তাঁর ০১৭১১৫৩৪৯৭০ নাম্বারে বক্তব্য নেবার জন্য কল করলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। হিন্দী ছবি মুন্না ভাই এমবিবিএসের একটি ডায়লগ আছে,”মুন্না মেরা ভাইহে”! আমরা সাধারন মানুষ তাঁকে উপকারী মুন্না ভাই হিসেবেই পেতে চাই। প্রথমে শুরু করেছিলাম একটি শের(কবিতা) দিয়ে যেহেতু মুন্না ভাই কাওয়ালী পছন্দ করেন, তাই তিনি এই শের বা কবিতাটি সহজেই বুঝবেন।

“মুন্না মেরা ভাইহে-দেশকা সিপাহি হে,
আয়েহো ঘোড়েপে-কাম নাই হুয়াতো যাওগে ভাগকে”………

  • মুন্না মেরা ভাই হে......